নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা - কেন কলা খাবেন

আমরা সকলে কম-বেশি কলা খাই। কলা পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুজে পাওয়া বড় কঠিন।তবে আমরা নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা কি, তা মনে হয় কখনও ভেবে দেখিনি। কলা একটি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিগুনসম্পন্ন খাবার। কলাতে রয়েছে উপকারী ফাইবার, মিনারেল ও ভিটামিন।

নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা

এছাড়াও কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। একটি কলায় পটাশিয়াম থাকে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে পটাশিয়াম খুবই সহায়তা করে। তাই হার্ট অ্যাটাকে ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত কলা খেতে পারেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব।

ভূমিকা

নিয়মিত কলা খাওয়ার বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে। কলাকে  বলা হয় ইনস্ট্যান্ট ক্যালোরি যা খাওয়ার সাথে সাথে আপনার শরীরে শক্তি যোগায়। নিয়মিত কলা খেলে স্বাস্থ্যের সৌন্দর্য বাড়ে। এনার্জি বাড়াতে কলার কোন ঝুড়ি নেই। আসুন আমরা নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই। 

পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা

আমরা বেশিরভাগ সময়েই পাকা কলা খাই। তবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় অতিরিক্ত পাকা কলা অনেক মানুষই খেতে চান না। চামড়ার কালো রঙ দেখে আমরা মনে করি কলায় পচে গেছে এবং সেটা আমরা ফেলে দেই। আমেরিকার একদল গবেষকদের মতে অতি পাকা কলা পচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এই পুষ্টিগুণ দ্বিগুণ হয়ে যায়। পাকা কলায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, বায়োটিন ইত্যাদি রয়েছে।

আরোও পড়ূনঃ আপেল খাওয়ার উপকারিতা - আপেলের পুষ্টিগুণ

অতি পাকা কলায় কার্বোহাইড্রেট ও সুগার বেশি পরিমাণে থাকে যা শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বাদামী বা কালো দাগ সহ বেশি পাকা কলা খেলে এন্টাসিড এর মত কাজ করে যা বুক জ্বালা কমায়। পাকা কলা খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকে যার হৃদ রোগের ঝুঁকি কমায়। পাকা কলা হৃদ যন্ত্রের কর্মক্ষমতা এমন হারে বৃদ্ধি করে যা অন্যান্য খুব কম খাদ্যে লক্ষ্য করা যায়।

নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা

এছাড়াও পাকা কলা রক্তচাপ কমায়, রক্তস্বল্পতা দূর করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দুধ করে, কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কলাকে স্থান দেওয়াটা খুবই জরুরী।

কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা

আমরা পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে মোটামুটি সবাই জানি। তাই আমাদের খাদ্য তালিকায় কম বেশি সবাই পাকা কলা খেয়ে থাকি। তবে পুষ্টিগুণের দিক বিবেচনায় পাকা কলার পাশাপাশি কাচা কলা কে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কাঁচা কলাকে আমরা সাধারণত সবজি বা কোপ্তা হিসেবে খেয়ে থাকি।

নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা

কাঁচা কলায় পটাশিয়ামের উপস্থিতি প্রচুর পরিমাণে থাকে যা শরীরকে কর্মক্ষম করে তোলে।কাঁচা কলার ভিটামিন বি সিক্স এবং ভিটামিন সি কোষে পুষ্টি যোগায়। কাঁচা কলার পটাশিয়াম শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এটি এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে। ক্ষুধা শান্ত করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় কলার কোন জুড়ি নেই। 

কাঁচা কলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উত্তম সহায়ক। হজম শক্তির উন্নতি ঘটাতে কাঁচা কলা সবসময়ের জন্য কার্যকর। কাঁচা কলা পরিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। কাঁচা কলায় উপস্থিত ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। তাই আপনার স্বাস্থ্যকে নিরাপদ রাখতে কাঁচা কলার সবজি খেতে ভুলবেন না।

কলা খাওয়ার সঠিক সময়

কলা সবার প্রিয় একটি ফল। এই ফলটি সারা বছরই আমাদের দেশে পাওয়া যায়। এই ফলটি দেশের সব অঞ্চলেই পাওয়া যায়। যার ফলে এটি খুবই সহজলভ্য ফল। প্রকৃতপক্ষে কলা খাওয়ার কোন নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করাটা কঠিন। যেহেতু কলা একটি সহজপাচ্য খাবার তাই যে কোন সময় কলা খেতে পারেন। এটি আপনাকে দ্রুত এনার্জি এবং শক্তি দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সকালে কলা খাওয়াটাকে উত্তম বলে মনে করেন।

সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা

ক্যালোরির চাহিদা মেটাতে সবচেয়ে সহজ লক্ষ্য ফল হলো কলা। এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। এই ফলটিতে ক্যালরির পরিমাণ প্রায় ১০০। আমরা অনেকেই সকালের নাস্তায় কলা খায়। আবার কেউ কেউ অন্যান্য সময়ে কলা খেয়ে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সকালেই কলা খাওয়া ভালো বলে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

রাতে কলা খাওয়ার উপকারিতা

রাতে কলা খাওয়া নিয়ে নানা জনের নানা মত। রাতে কলা খাওয়াটাকে অনেকেই নিরুৎসাহিত করে থাকেন। তবে কলায় বিদ্যমান পটাশিয়াম শরীরের পেশীকে শান্ত করে ভালো ঘুমের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ক্লান্তিময় দিনশেষে রাতে কলা খেলে কলার পটাশিয়াম পেশীকে শান্ত করে গভীর ঘুমের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে একটি বা দুটি কলা খেতে পারেন।

দিনে কয়টি কলা খাওয়া উচিত

ইউএসডিএ গাইডলাইন অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন দুই কাপ ফল খাওয়া উচিত যা পরিমাণে দুটি বড় কলার সমান। সেই অনুযায়ী প্রতিদিন দুইটি কলা খাওয়া নিরাপদ। তবে যারা ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় আছেন তারা প্রতিদিন মাঝারি আকারের একটি কলা খেতে পারেন। শারীরিক পরিশ্রমের আগে এবং পরে কলা খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

শেষ কথা

নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিভিন্ন পুষ্টিবিদের মতামত বিভিন্ন রকম। পুষ্টিবিদদের মতামত অনুযায়ী নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতার অনেক বেশি তাই নিজের খাদ্য তালিকায় কলা কে নিয়মিত স্থান দিন। নিয়মিত অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি কলা খান এবং সুস্থ থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

T Time Trend এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url