গবেষণা প্রতিবেদন - বি এড শিক্ষায় গবেষণা

গবেষণার নামকরণ

"নতুন শিক্ষাক্রম (জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১) অনুসরণ করে শিমুলেশন ক্লাস পরিচালনার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা"


গবেষণা প্রতিবেদন - বি এড শিক্ষায় গবেষণা

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

প্রথমে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যার আশীর্বাদ ও অনুগ্রহে আমি আমার গবেষণা কর্মটি যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পেরেছি।

এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। প্রথমে ড. আফরোজা নাজনীন, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, রাজশাহী এর নিকট কৃতজ্ঞ। তার মূল্যবান সময়, সহযোগিতা, নির্দেশনা, অনুপ্রেরণা এবং গবেষণার কাজে যাবতীয় পরামর্শ প্রদান করে আমাকে বাধিত করেছেন।

বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ অত্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জনাব মোঃ শওকত আলী খান, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, রাজশাহী যিনি এই গবেষণা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করেছেন।

এছাড়াও অত্র কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর জনাব ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, রাজশাহী এর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি জনাব জয়দেব কুন্ডু, প্রভাষক, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, রাজশাহী যার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় গবেষণা কর্মটি নিতে আগ্রহী হয়েছে।

আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি অত্র কলেজের সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী, আমার সহপাঠীগণ এবং বন্ধুগণকে যারা আমাকে গবেষণা কর্মটি সম্পন্ন করতে নৈতিক ও মানসিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

- তারেক আজিজ

সারসংক্ষেপ

বর্তমান গবেষণার বিষয়টি ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের বি এড প্রশিক্ষনার্থীদের নিয়ে। গবেষণার বিষয় হচ্ছে "নতুন শিক্ষাক্রম (জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১) অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা"।

২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বি এড প্রশিক্ষনার্থীগণ নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় বেশ কিছু সুবিধা পেলেও কিছু কিছু উন্নয়নের দিক ও উপলব্ধি করেছেন।

গবেষণাটি পরিচালনার জন্য প্রশ্নমালার সাহায্যে উত্তরদাতাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষণার তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিত্তিক শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক এই নতুন শিক্ষাক্রম সমৃদ্ধকরণের জন্য কিছু সুপারিশ করা হয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়ন হলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এই শিক্ষাক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সূচিপত্র

  • ভূমিকা
  • সমস্যার প্রকৃতি
  • সমস্যার বর্ণনা
  • গবেষণার উদ্দেশ্য
  • ব্যবহৃত পদ সমূহের সংজ্ঞা
  • সাহিত্য পর্যালোচনা
  • গবেষণার নকশা
  • তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি
  • তথ্য সংগ্রহের কৌশল
  • উপাত্ত উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ
  • ফলাফল
  • সুপারিশ
  • উপসংহার
  • সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি
  • পরিশিষ্ট

ভূমিকা

তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের কারণে পরিবর্তনশীল আমাদের এই বিশ্বে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে জীবন ও জীবিকা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ আমাদের কর্মসংস্থান ও জীবন প্রণালীকে প্রভাবিত করছে। ফলে একদিকে যেমন প্রচলিত কর্মসংস্থান কমছে তেমনি নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরিও হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন দূরদর্শী, সংবেদনশীল, অভিযোজনক্ষম, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক।

এরকম একটি প্রেক্ষাপটে প্রচলিত শিক্ষার শুধুমাত্র পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন রূপান্তর। এতদূদ্দেশ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিভিন্ন গবেষণা ও কারিগরি অনুশীলন পরিচালনা করেন। এই গবেষণা অনুশীলনে প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে প্রাথমিক পর্যায় থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর জন্য একটি জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ প্রণয়ন করেন।

উপরিউক্ত আলোচনা এবং বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে আলোচিত বিষয় নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১। তাই আমি গবেষণায় এই সমস্যাটিকে নির্বাচন করেছি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ অনুসারে ২০২৩ সালে মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে যোগ্যতাভিত্তিক নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়। ফলে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বি এড (প্রফেশনাল) কোর্সের সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় প্রশিক্ষনার্থীগণ শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠদানকালে কি কি সুবিধা পেয়েছেন এবং কি কি সমস্যা মোকাবেলা করেছেন, একই সাথে পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জসমূহ শনাক্তকরণ ও উত্তরণের উপায় এই গবেষণার আলোচ্য বিষয়।

সমস্যার প্রকৃতি

গবেষণার উদ্দেশ্যে নির্বাচিত সমস্যাটির প্রকৃতি হচ্ছে সাম্প্রতিক ইস্যু, প্রায়োগিক-Empirical এবং বর্ণনামূলক গবেষণা।

সমস্যার বর্ণনা

বর্তমানে পৃথিবী যেসব সমস্যা ও সম্ভাবনার দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, সেসব সমস্যার টেকসই ও কার্যকর সমাধান ও সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল গ্রহণের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন দূরদর্শী, সংবেদনশীল, অভিযোজনক্ষম ও মানবিক বোধ সম্পন্ন যোগ্য বিশ্ব নাগরিক দরকার। এজন্য প্রয়োজন সৃষ্টিশীল শিক্ষা ব্যবস্থা যা নমনীয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম এবং উন্নত অর্থ সামাজিক প্রয়োজনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। 

এছাড়াও সরকারের ভীষণ ২০২১, ২০৪১, ২০৭১ এবং ২১০০ (ডেল্টাপ্লান) প্রভৃতি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য একটি যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম রূপরেখা উন্নয়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন শিক্ষার আধুনিকায়ন। আর এই আধুনিকায়নের জন্য অবশ্যই একটি কার্যকর যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রয়োজন যা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

এরকম একটি প্রেক্ষাপটে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার শুধুমাত্র পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন শিক্ষার রূপান্তর। এতদুদ্দেশ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার উপর বিভিন্ন গবেষণা ও কারিগরি অনুশীলন পরিচালনা করে ফলাফলের উপর ভিত্তি করে দেশের বরেণ্য শিক্ষা বিশেষজ্ঞ স্তরভিত্তিক শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য একটি জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ প্রণয়ন করেন, যা ২০২৩ সালে মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে বাস্তবায়ন করা হয়। ২০১৪ সালে অষ্টম ও নবম শ্রেণীতে এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। যা বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। এজন্য আমি সমস্যাটি আমার গবেষণার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক উৎপাদনমুখী অভিযোজনক্ষম সুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে তোলার জন্য সমস্যাটি নির্বাচন করা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত হয়েছে বলে আমি মনে করি।

মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বি.এড (প্রফেশনাল) কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় কি কি সুবিধা এবং কি কি অসুবিধা হয়েছে তা পর্যালোচনা করার জন্য সমস্যাটি নির্বাচন করা হয়েছে।

পর্যালোচনায় প্রাপ্ত ফলাফল প্রশিক্ষনার্থীদের শ্রেণীতে পাঠদানের সহায়ক হবে, যা দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

গবেষণার উদ্দেশ্য

  • নির্বাচিত শিক্ষক সহায়িকার বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ
  • নির্বাচিত পাঠ্যপুস্তক এর বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ
  • নির্বাচিত শিক্ষক সহায়িকা ও পাঠ্যপুস্তক এর বিষয়বস্তু তুলনাকরন

ব্যবহৃত পদসমূহের সংজ্ঞা

শিক্ষা নীতি

শিক্ষার মাধ্যমে কোন একটি দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ রূপে গড়ে তোলার জন্য সরকার কর্তৃক সুপরিকল্পিত, লিখিত এবং সর্বসাধারণ কর্তৃক স্বীকৃত দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা কার্যক্রমের রূপরেখাই হলো শিক্ষানীতি। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণীত হয়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক, উৎপাদনমুখী, অভিযোজনক্ষম, সুখী এবং বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে তোলার জন্য যোগ্যতা ভিত্তিক শিখন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত, লিখিত এবং যুগোপযোগী স্বল্পমেয়াদি শিক্ষা কার্যক্রমের রূপরেখা হলো জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১।

সিম্যুলেশন ক্লাস

বাস্তব পরিবেশের কাছাকাছি একটি কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রকৃত ধারণা প্রদানের চেষ্টা করাকে সিম্যুলেশন বা ছদ্ম শিক্ষণ বলে। এই পদ্ধতিতে একজন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকের ভূমিকায় এবং অন্যান্য প্রশিক্ষনার্থীগণ শিক্ষার্থীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। প্রশিক্ষক এখানে পর্যবেক্ষণকারীর ভূমিকায় থাকেন।

সাহিত্য পর্যালোচনা

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যত উন্নত, সে দেশ তত বেশি উন্নত। সুতরাং কোন দেশের শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্রম, শিক্ষার মান এর উপর সে দেশের উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করে। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশেও শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্ব লাভ করেছে।

শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য জীবনকে নান্দনিক, আনন্দময় ও অর্থবহ করে তোলা এবং সেই সাথে শিক্ষার্থীকে জীবিকা অর্জনের উপযোগী সৃষ্টিশীল ও মানবিক মানুষে পরিণত করা। একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষার উদ্দেশ্য। (জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১)

সংবিধান জাতীয় শিক্ষার দর্শন স্বরূপ। সংবিধান শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বাংলাদেশের সংবিধানে শিক্ষা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। বস্তুত সংবিধানের এই প্রস্তাবনায় জাতির বিকাশ সাধন এবং বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার ঘোষিত দৃঢ় প্রত্যয় বাস্তবে রূপায়ণের অন্যতম উপায় হিসেবে শিক্ষার গুরুত্ব স্বীকৃত ও প্রতিশ্রুত বিষয়। একথারই প্রতিফলন সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫,১৬,১৭,১৯(১),২৩,২৭,২৮(৩),২৯(২), ৪১(২) ও ৪৪ এ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিক্ষা সংক্রান্ত বিধানাবলী বিবৃত হয়েছে। এগুলো শিক্ষা বিষয়ক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলিল।

  • অনুচ্ছেদ ১৫ (ক)- "খাদ্যবস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণ এর ব্যবস্থা"
  • অনুচ্ছেদ ১৬- "গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।"
  • অনুচ্ছেদ ১৭- "অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা"
  • অনুচ্ছেদ ১৯(৩)- "জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন"
  • অনুচ্ছেদ ২৩- "জাতীয় সংস্কৃতি"
  • অনুচ্ছেদ ২৭- "সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী"
  • অনুচ্ছেদ ২৮- "কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী, পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না"
  • অনুচ্ছেদ ২৯- "প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে"
  • অনুচ্ছেদ ৪১- "ধর্মীয় স্বাধীনতা"
  • অনুচ্ছেদ ৪৪- "মৌলিক অধিকার বলবৎকরন"

- (বাংলাদেশ সংবিধান)

গবেষণার নকশা

তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি

নির্বাচিত গবেষণাটি নিঃসম্ভাবনামূলক নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ নিসঃসম্ভাবনা নমুনায়নের উদ্দেশ্যমূলক নমুনায়ন পদ্ধতি। উল্লেখ্য যে, গবেষক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, পছন্দ ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে যে পদ্ধতিতে নমুনা বাছাই করেন তাকে উদ্দেশ্যমূলক নমুনায়ন বলে।

নির্বাচিত গবেষণাটিতে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বি এড (প্রশিক্ষণ) কোর্সে অধ্যয়নরত প্রশিক্ষণার্থীগন কর্তৃক (নতুন শিক্ষাক্রম ২০২১) ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর নির্বাচিত শিক্ষণীয় বিষয়ে সিম্যুলেশন ক্লাস থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এজন্য নির্বাচিত গবেষণাটি নিঃসম্ভাবনামূলক উদ্দেশ্যমূলক নমুনায়নের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্য সংগ্রহের কৌশল

গবেষণাটি পরিচালনা করার জন্য তথ্য সংগ্রহের কৌশল হিসেবে একটি প্রশ্নমালা প্রস্তুত করা হয়েছিল। এ প্রশ্নমালার আলোকে প্রশিক্ষনার্থীদের নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য যে প্রশ্নমালা হল উপাত্ত সংগ্রহের এমন একটি কৌশল যার মাধ্যমে পরস্পর সম্পর্কিত এবং সুনির্দিষ্ট কতগুলো প্রশ্নের সমন্বয়ে গঠিত একসেপ্ট প্রশ্ন যা উত্তরদাতার নিকট প্রেরণ করা হয় এবং উত্তরদাতা নিজে তা পূরণ করে গবেষকের নিকট প্রেরণ করেন।

প্রশ্নমালার অন্যতম দুইটি উদ্দেশ্য হলোঃ বর্ণনা ও পরিমাপন

নির্বাচিত গবেষণাটিতে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ৮ টি প্রশ্ন সম্বলিত একসেট প্রশ্নমালা তৈরি করে উত্তরদাতা প্রশিক্ষণার্থীর নিকট প্রেরণ করা হয় এবং উত্তরদাতা নিজে তা পূরণ করে গবেষকের নিকট প্রেরণ করেন।

উপাত্ত উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ

প্রশ্ন ও উত্তরঃ

১। সিম্যুলেশন ক্লাসে পাঠদানের শ্রেণী নির্বাচন করুন।

উত্তরঃ ষষ্ঠ শ্রেণী

২। সিম্যুলেশন ক্লাসে পাঠদানের বিষয় নির্বাচন করুন।

উত্তরঃ ইংরেজি

৩। শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুতকরণে কি কি সুবিধা পেয়েছেন?

উত্তরঃ শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুতকরণে যে সকল সুবিধা পেয়েছি তা নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

  • পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুতে কম সময় লেগেছে।
  • পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করার সহজ হয়েছে।
  • পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে মাথা খাটাতে হয়নি।
  • বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি।
  • পাঠের বিষয়বস্তু বুঝতে সহজ হয়েছে।
  • বাস্তব উপকরণের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
  • উপকরণ প্রস্তুত করতে সুবিধা হয়েছে।
  • সময় অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়েছে।

ব্যাখ্যাঃ শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুতকরনে প্রশিক্ষণার্থীগন যে সকল সুবিধা পেয়েছেন তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ খুবই যুগোপযোগী এবং বাস্তবসম্মত।

৪। শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে কি কি সমস্যা মোকাবেলা করেছেন?

উত্তরঃ শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে যে সকল সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে তা নিম্নরূপঃ

  • শিক্ষকদের নিজস্ব কোন কৌশল বা পাঠদান পদ্ধতি ব্যবহার করার সুযোগ নেই।
  • সময় ব্যবস্থাপনায় সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে।
  • এক শিখনফল দিয়ে একাধিক পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করতে হয়েছে।
  • অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর চাহিদা অনুযায়ী পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

ব্যাখ্যাঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ এ বাস্তব অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে এর উন্নয়ন করা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। শিক্ষক সহায়িকায় যে পদ্ধতি ও কৌশল বলা আছে তা অনেক সময় শ্রেনিকক্ষে প্রয়োগ করা যায় না। আবার শিক্ষক তার নিজস্ব পদ্ধতি ও কৌশলও প্রয়োগ করতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের শিখন অর্জনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

৫। পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় কি কি সুবিধা পেয়েছেন?

উত্তরঃ পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় যে সকল সুবিধা পেয়েছি তা নিম্নরূপঃ

  • ধারাবাহিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরেছি।
  • শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
  • ক্লাসের একটি সামগ্রিক প্রস্তুতি পাঠদানের পূর্বেই নেওয়া যায়।
  • পাঠের বিষয়কে শিক্ষার্থীদের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়।
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লাসের সকল কার্যক্রম শেষ করা যায়।

ব্যাখ্যাঃ একজন শিক্ষক পাঠদান করার পূর্বেই প্রস্তুতি গ্রহণ করে একটি শ্রেণী উপযোগী পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করেন যা শ্রেণী পাঠদান কার্যক্রমে একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকগণ অনেক সুবিধা পেয়েছেন। সুতরাং পাঠ পরিকল্পনা শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৬। পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় কি কি সমস্যা মোকাবেলা করেছেন?

উত্তরঃ পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় যে সকল সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে তা নিম্নরূপঃ

  • নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর বাইরে চিন্তার সুযোগ নেই।
  • পাঠদানের পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা ছিল।
  • পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী উপকরণ প্রস্তুত ব্যয়বহুল।
  • পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষকের স্বাধীনতা থাকে না।
  • অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পাঠদান কঠিন হয়েছে।
  • নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠদানের সময়ের স্বল্পতা ছিল।

ব্যাখ্যাঃ উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় একজন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষককে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থেকে পাঠদান করতে হয়েছে। এতে তিনি কিছু সমস্যা মোকাবেলা করেছেন। তার মধ্যে "শিক্ষকের সৃজনশীল চিন্তার স্বাধীনতা থাকে না" এটি অন্যতম। তবে পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় প্রশিক্ষনার্থী শিক্ষকগণ যতটা সমস্যা মোকাবিলা করেছেন, তার চেয়ে সুবিধা বেশি পেয়েছেন।

৭। নির্বাচিত পাঠ্যপুস্তক এর যে সেশনগুলো পরিচালনা করেছেন সেগুলোর সবল দিকসমূহ চিহ্নিত করুন।

উত্তরঃ নির্বাচিত পাঠ্যপুস্তক (ইংরেজি) বিষয়ে যে সেশনগুলো পরিচালনা করেছি, তার সবল দিক সমূহ নিম্নরূপঃ

বিষয়ঃ ইংরেজি

শ্রেণীঃ ষষ্ঠ

ইউনিটঃ ০১ (সেশন- ০১)

সবল দিকঃ শিক্ষার্থীরা আনন্দের সহিত শিখন অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।

বিষয়ঃ ইংরেজি

শ্রেণীঃ ষষ্ঠ

ইউনিটঃ ১২ (সেশন-০১)

সবল দিকঃ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। উপকরণ বাস্তবসম্মত ছিল। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সহিত শিখন অর্জন করেছে।

ব্যাখ্যাঃ উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, নতুন শিক্ষাক্রম ২০২১ এ শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠদান করার জন্য শিক্ষক যদি পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে একদিকে শিক্ষক যেমন পাঠদানে সুবিধা পাবেন, তেমনি শিক্ষার্থীদের শিখন ফলপ্রসু হবে।

৮। নির্বাচিত পাঠ্যপুস্তকের যে সেশনগুলো পরিচালনা করেছেন সেগুলোর উন্নয়নের দিকসমূহ চিহ্নিত করুন।

উত্তরঃ নির্বাচিত পাঠ্যপুস্তক (ইংরেজি) বিষয়ে যে সেশনগুলো পরিচালনা করেছি সেগুলোর উন্নয়নের দিক সমূহ নিম্নরূপঃ

বিষয়ঃ ইংরেজি

শ্রেণীঃ ষষ্ঠ

ইউনিটঃ ০১ (সেশন-০১)

উন্নয়নের দিকঃ সময় আরেকটু বেশি নিলে ভালো হতো।

বিষয়ঃ ইংরেজি

শ্রেণীঃ ষষ্ঠ

ইউনিটঃ ১২ (সেশন-০১)

উন্নয়নের দিকঃ শ্রেনী কার্যক্রমে খেলার মাধ্যমে পাঠদান করার সুযোগ থাকলে ভালো হতো।

ব্যাখ্যাঃ উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, নতুন শিক্ষাক্রম ২০২১ অনুযায়ী সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠদান করলে শিখন-শেখানো কার্যক্রম ফলপ্রসু হবে, শিক্ষার্থীদের শিখন স্থায়ী হবে এবং শিক্ষার্থীরা আনন্দের সহিত শিখন অর্জন করতে পারবে।

ফলাফল

ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের সিম্যুলেশন ক্লাস এর উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যে ফলাফল পাওয়া যায় তার নিচে উপস্থাপন করা হলোঃ

৩ নং প্রশ্নের উত্তর পর্যালোচনা করে বলা যায় যে, উত্তরদাতাগণ শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে নিম্নলিখিত সুবিধাসমূহ পেয়েছেনঃ

  • পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে কম সময় লেগেছে।
  • পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা সহজ হয়েছে।
  • উপকরণ ব্যবহার করা সহজ হয়েছে।
  • বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

৪ নং প্রশ্নের ব্যাখ্যা অনুসারে বলা যায় যে, শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো হয়েছেঃ

  • শিক্ষকের নিজস্ব কৌশল বা পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ নেই।
  • সৃজনশীলতা প্রকাশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
  • সময় ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হয়েছে।

৫ নং প্রশ্নের ব্যাখ্যা অনুসারে বলা যায় যে, পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় নিম্নলিখিত সুবিধা সমূহ পেয়েছেনঃ

  • ধারাবাহিকভাবে পাঠদান সম্ভব হয়েছে।
  • শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।
  • পাঠের বিষয় সুন্দরভাবে উপস্থাপন সম্ভব হয়েছে।

৬ নং প্রশ্নের ব্যাখ্যা অনুসারে বলা যায় যে, পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় উত্তরদাতাগণ নিম্নলিখিত সমস্যা মোকাবেলা করেছেনঃ 

  • বিষয়বস্তুর সীমাবদ্ধতা
  • পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা
  • উপকরণ প্রস্তুত ব্যয়বহুল

৭ নং প্রশ্নের ব্যাখ্যা অনুসারে বলা যায় যে, প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকগণ নির্বাচিত বিষয়ের (ইংরেজি) যে সকল সেশনগুলো পরিচালনা করেছেন তার সবল দিকগুলো নিম্নরূপঃ

  • বাস্তব উপকরণ প্রদর্শন
  • অংশগ্রহণমূলক পাঠদান
  • শিখন অর্জন আনন্দময় ও স্থায়ী

৮ নং প্রশ্নের ব্যাখ্যা অনুসারে বলা যায় যে, নির্বাচিত বিষয়ের (ইংরেজি) যে সেশনগুলো প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকগণ পরিচালনা করেছেন তার উন্নয়নের দিক নিম্নরূপঃ

  • শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
  • শিক্ষকের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

সুপারিশ

প্রাপ্ত ফলাফলের ০৮টি প্রশ্নের আলোকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করলে নতুন শিক্ষাক্রমের শিক্ষক সহায়িকা ও পাঠ্যপুস্তক সমূহ সমৃদ্ধ হবে।

  • মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষকের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
  • প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।
  • বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।
  • বিদ্যালয় মনিটরিং বাড়াতে হবে।
  • শিক্ষকদের নিজস্ব পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা হ্রাস করতে হবে।
  • শিক্ষকদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে।
  • শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকতে হবে।
  • শ্রেণীতে বাস্তব উপকরণ ব্যবহারের প্রতি জোর দিতে হবে।

উপসংহার

সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রাপ্ত ফলাফলের আলোকে বলা যায় যে, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে মানুষের জীবন প্রণালী ও কর্মসংস্থানের অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এই পরিবর্তনশীল শিক্ষা ব্যবস্থায় টিকে থাকার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান সম্পন্ন দক্ষ মানব শক্তি গড়ে তোলার জন্য নতুন শিক্ষাক্রম ২০২১ এর বাস্তবায়ন সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করি। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় শিক্ষকদের অনেক সুবিধা হয়েছে আবার অনেক সমস্যাও মোকাবেলা করতে হয়েছে যা সুপারিশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি

  • জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ (www.nctb.gov.bd)
  • শিক্ষক বাতায়ন (www.teachers.gov.bd)
  • মুক্তপাঠ (www.muktopaath.gov.bd)
  • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান (www.govt.bd)
  • বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (www.bangladesh.gov.bd)
  • শিক্ষায় গবেষণা, প্রফেসর ড. মনিরা জাহান, জানুয়ারি-২০২২
  • একীভূত শিক্ষা, হাসনাথ জাহান, জানুয়ারি-২০২২

পরিশিষ্ট

প্রশ্নমালা

  1. সিম্যুলেশন ক্লাসে পাঠদানের শ্রেণী নির্বাচন করুন।
  2. সিম্যুলেশন ক্লাসে পাঠদানের বিষয় নির্বাচন করুন।
  3. শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুতকরণে কি কি সুবিধা পেয়েছেন?
  4. শিক্ষক সহায়িকা অনুসরণ করে পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে কি কি সমস্যা মোকাবেলা করেছেন?
  5. পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় কি কি সুবিধা পেয়েছেন?
  6. পাঠ পরিকল্পনা অনুসরণ করে সিম্যুলেশন ক্লাস পরিচালনায় কি কি সমস্যা মোকাবেলা করেছেন?
  7. নির্বাচিত পাঠ্যপুস্তকের যে সেশনগুলো পরিচালনা করেছেন সেগুলোর সবল দিকসমূহ চিহ্নিত করুন।
  8. নির্বাচিত পাঠ্যপুস্তকের যে সেশনগুলো পরিচালনা করেছেন সেগুলোর উন্নয়নের দিকসমূহ চিহ্নিত করুন।


সার্বিক সহযোগিতায়ঃ
মোঃ উবায়দুল্লাহ
বি এড - ২০২৩
আইডি- ২৮২

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

T Time Trend এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url