পেট ফুলে শক্ত হওয়ার কারণ

আপনি কি পেট ফোলা সমস্যায় ভুগছেন। পেট ফুলে শক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পোস্টটি পড়ুন। পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়ার বর্তমানে মানুষের একটি সাধারন সমস্যা। আমরা আমাদের এই পোস্টে আজকে পেট ফুলে শক্ত হওয়ার কারণ সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
পেট ফুলে শক্ত হয়ে যায় কেন
পেট বিভিন্ন কারণে ফুলে শক্ত হয়ে যেতে পারে। খাদ্যভ্যাসের পরিবর্তনের ফলে কিংবা খাবার বেশি পরিমাণে খেলে বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে। আজকে আমরা সেই কারণ সম্পর্কে জানব।

সূচিপত্রঃ- পেট ফুলে শক্ত হওয়ার কারণ

বর্তমানে মানুষজন দিন দিন ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। ব্যস্ততার কারণে খাবারের অনিয়ম হচ্ছে। তারা সময় মত খাবার টাইম পাচ্ছেন না। এই অনুমিত খাবারের জন্য আপনার পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। যেমন- অ্যাসিডিটি, ফোলাভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এবং পেট ফাঁপা ইত্যাদি। 
প্রধানত খাবার খাওয়ার সময় খাবারের সাথে বাতাস পেটের মধ্যে প্রবেশ করে এবং হজম প্রক্রিয়ার সময় আমাদের শরীর গ্যাস উৎপন্ন করে। সব খাবার এই যে এরকম গ্যাস উৎপন্ন করে এমন নয়। কিছু কিছু খাবার খেলে বেশি পরিমাণে গ্যাস উৎপন্ন করে এবং পরিস্থিতি খারাপ করে দেয়। এক্ষেত্রে পেট ফুলে শক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে।

পেট ফুলে শক্ত হওয়ার লক্ষণ

পেট ফুলে শক্ত হওয়ার অনেক লক্ষণ রয়েছে। যে লক্ষণগুলো দেখলে বা অনুভব করলে বোঝা যায় যে আপনার পেট ফুলে গেছে। নিম্নে কিছু লক্ষণ দেয়া হলো।
  • পেট ফুলে শক্ত হয়ে থাকলে ঘন ঘন ঢেকুর ওঠে। অর্থাৎ মুখ দিয়ে পেট থেকে বাতাস বের হয়।
  • পেট ফুলে শক্ত হয়ে থাকার কারণে ব্যথা অনুভূত হয়।
  • আপনার যদি বমি বমি বা বদহজম হয়ে থাকে তাহলে বুঝবেন আপনার পেট ফুলে শক্ত হয়ে গেছে।
  • হঠাৎ যদি পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার মত হয় কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাহলে আপনার পেটের সমস্যা হয়েছে।

পেট ফুলে শক্ত হয়ে যায় কেন

পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। প্রধানত খাবার এর জন্য পেটের সমস্যা হয়ে থাকে। বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা, তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ করা, বাসি খাবার গ্রহণ করা ফাস্টফুড বা সফট ড্রিংক পান করা কিংবা মুখরোচক খাবার বা ভাজাপোড়া খেলে আপনার পেটের সমস্যা হয়ে পেট ফুলে যেতে পারে। নিম্নে পেট ফুলে শক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
অন্ত্র সিন্ড্রোমঃ
অন্ত্র সিন্ড্রোম একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে এই সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
এই সমস্যার ফলে আমাদের পেট ফুলে শক্ত হয়ে যায়। পুরুষদের তুলনায় সাধারণত মেয়েরা এই সমস্যায় বেশি বুকে থাকে।
অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগঃ
এটি হলো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের প্রদাহ জনিত রোগ। অন্ত্রের প্রদাহ আপনার পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে খসখসে পেটে ব্যথা, অন্ত্রের অভ্যাসের পরিবর্তন, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের জন্য জরুরিতা, বা মলে রক্ত সহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
খাদ্য অসহিষ্ণুতাঃ
অনেকের শরীরের খাদ্য হজম করার ক্ষমতা কম থাকে। বিশেষ করে তারা পেটের সমস্যায় ভুগে থাকেন। খাদ্য হজম করার ক্ষমতা কমে যাওয়া পেট ফুলে শক্ত হয়ে যায়ার একটি কারণ।
বিশেষ করে যাদের  সিলিয়াক রোগ এবং ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে তারা এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। এই সমস্যা হলে কোন কিছু খাওয়ার পরে পেট ফুলে যায়, শক্ত হয়ে থাকে এবং ব্যথা অনুভূত হয়।
পাকস্থলীতে গ্যাসঃ
বিভিন্ন খাবারের ফলে পাকস্থলীতে গ্যাস উৎপন্ন হতে পারে। এই গ্যাস উৎপন্নের জন্য আপনার পেট ফুলে শক্ত হয়ে যেতে পারে। ফাইবার যুক্ত খাবার শরীর স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অনেকের ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হয় এবং পেট ফুলে যায়। তাই অতিরিক্ত ফাইবার যুক্ত খাবার খেলে পেট ফুলে শক্ত হয়ে  যেতে পারে।
ফ্যাটি ফুডঃ
অতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। অতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবার খেলে সেই তেল হজম করতে পাকস্থলীর সমস্যা হতে পারে। গ্যাস উৎপন্ন হয়ে পেটে ব্যথা, বদহজম এমনকি বমি বমি ভাব হতে পারে। তাই অতিরিক্ত বা ফ্যাটি খাবার খাওয়া পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
বীনসঃ
পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো বীনস যুক্ত খাবার খাওয়া। দিনে প্রচুর পরিমাণে শর্করা এবং অলিগোসেকেরাইড রয়েছে। পাকস্থলীর পক্ষে অলিগোসেকেরাইড হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
লবণাক্ত জিনিস খাওয়াঃ
অতিরিক্ত লবণ খাওয়া শরীর থেকে তরল পদার্থ নির্গত হতে বাধা প্রদান করে। যার ফলে পেট ফোলার মত সমস্যা দেখা দেয়। তাই চিপস অথবা লবণাক্ত খাবার এর পরিবর্তে অন্য কোন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
গমের তৈরি খাবারঃ
কমেও প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। কিন্তু গমের তৈরি খাবার খেলে অনেকের পেটের সমস্যা বা পেট ফুলে যাওয়া সমস্যা হয়ে থাকে। যা সিলিয়েক নামক এক রোগের লক্ষণ হতে পারে।
কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কসঃ
কার্বনেটের ড্রিংক পান করার ফলে পেটের সমস্যা হবে এটাই স্বাভাবিক। পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে এ ধরনের ড্রিঙ্কস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এ ধরনের ড্রিংকসে প্রচুর পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড রয়েছে।
এসকল কার্বন-ডাই-অক্সাইড পাকস্থলীতে গেলে পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি হয়। কার্বনেটের ড্রিঙ্কস পান করার ফলে পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া, পেটে ব্যথা হওয়া সহ পেট মোচড়ানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত কার্বনেট ড্রিঙ্কস পান করলে পেট ফুলে শক্ত হয়ে যেতে পারে।
কৃত্রিম চিনিঃ
কৃত্রিম চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কৃত্রিম চিনিতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা পেটফলার জন্য দায়ী। এই কৃত্রিম চিনি মলাশয়ে যেয়ে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে গাজন প্রক্রিয়া সংঘটিত করে। এবং অতিরিক্ত কৃত্রিম চিনি খেলে শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মগ্রহণ করে। যার ফলে পেট ফুলে শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং মাইক্রোবায়মের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। অতিমাত্রায় কৃত্রিম চিনি খাওয়া পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়ার আরোকটি কারণ ।
কপি জাতীয় সবজিঃ
পেট ফুলে শক্ত হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে কপি জাতীয় সবজি খাওয়া অন্যতম। শাকসবজি অবশ্যই শরীর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়া এ ধরনের শাকসবজিতে ক্যান্সার প্রতিরোধী অনেক উপাদান রয়েছে। কিন্তু এই শাকসবজি গুলোতে রেফিনোজ নামে এক ধরনের স্টার্চ থাকে। এই স্টার্চ গুলো শরীরের পক্ষে হজম করা অনেক কঠিন। হজম করতে না পারলে পেটে গ্যাস তৈরি হয় এবং পেট ফুলে শক্ত হয়ে যায়।
এনএসএইডঃ
এনএসএইড বা ননস্টেরোডিয়াল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামাটরি ওষুধ গুলো সাধারণত ব্যথা নাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর ব্যথা নাশক ওষুধ শরীরের জন্য খুব একটা ভালো নয়।
এসব ওষুধ খেলে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমা হয়। অনেক সময় পেটে গ্যাসের উৎপন্ন করে এবং পেট ফুলে যায়। এ ধরনের ওষুধ সেবন করলে পেট ফুলে শক্ত হয়ে যেতে পারে।
সয়াঃ
তাদের শরীর ল্যাক্টোজেন হজমে সমস্যা হয় তারা অনেক সময় সয়া দুধ পান করে থাকেন। কিন্তু এই সয়া দুধ আপনার পেটে গ্যাস তৈরি করা এবং পেট ফুলানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। ছায়া দুধের পরিবর্তে আপনি নারকেলের দুধ, চালের দুধ, শণের দুধ বা চিনি ছাড়া আলমন্ডের দুধ খেতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

পেট ফোলার সমস্যা দূর করার কিছু উপায়

(১) নিয়মিত প্রতিদিন সকালে বাসে পেটে পানি পান করুন।
(২) অতিরিক্ত তেল এবং মশলা জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
(৩) ফাস্টফুড বা জাঙ্ক ফুড সম্ভাব হলে ত্যাগ করুন না হলে পরিমাণ মতো খান।
(৪) ধূমপান, মদ পান এবং তামাক সেবন করা থেকে বিরত থাকুন।।
৩. জাঙ্ক ফুড খাবেন না।
(৪) যতটা সম্ভব চা এবং কফি কম পরিমাণে পান করুন।
(৫) দুপুরে খাবারের পর ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন।
(৬) রাতের খাবার শেষে এবং ঘুমানোর আগে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন।
(৭) কমল পানীয় বা সফ্ট ড্রিংকস বা কার্বনেটেড পান করা থেকে বিরত থাকুন।
(৮) খাবার গ্রহণের সময় পর্যাপ্ত চিবিয়ে গলধকরণ করুন।
(৯) একসঙ্গে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খেতে পারেন।

প্রিয় পাঠক পেটের সমস্যা বড় সমস্যা। পেটের সমস্যা হলে কোন কিছুতেই স্বস্তি পাওয়া যায় না। তাই আজকে আমরা পেট ফুলে শক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করলাম। আজকের আলোচনা থেকে আপনারা নিশ্চয়ই জেনে গেছেন পেট ফুলে শক্ত হওয়ার কারণ। আশা করি এ সকল কিছু জানার পরে আপনারা পেটের সমস্যা থেকে নিরাপদে থাকতে পারবেন। এই পোস্টটি পড়ে আপনাদের উপকার হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

T Time Trend এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url